৭টি সেরা পদ্ধতিতে পার্সোনাল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ইনকাম করুন ২০২১

অনলাইনে ইনকাম ২০২১

৭টি সেরা পদ্ধতিতে পার্সোনাল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ইনকাম করুন ২০২১

এখন ২০২১ সাল এই সময়ে অনলাইনে ইনকাম জনপ্রিয় একটি আয়ের উৎস হিসাবে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বেকার মানুষদের জন্য। অনেকেই অনলাইনে ইনকাম করার চেষ্টা করছেন পারছেন না কিছু গাইডলাইনের অভাবে। আমি আজকে আপনাদের কে কোন ইনভেস্ট ছাড়াই কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন সেই পথ পদ্ধতি বলে দিব। আলহামদুলিল্লাহ ইতিমধ্যেই আমি সফলতার মুখ দেখতে পেরেছি এবং মোটামুটি ভালো পরিমাণের ইনকাম করছি। আপনারাও পারবেন যদি শুধুমাত্র একটু কষ্ট করেন। ধৈর্য ধরে লেগে থাকেন, তাহলেই আপনার অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।
অনলাইনে আয় করার জন্য পার্সোনাল ওয়েবসাইট একটি অন্যতম ভালো মাধ্যম হতে পারে যদি আপনি একটু চেষ্টা করেন।
তাহলে চলুন মূল টপিকে চলে আসি

একনজরে আর্টিকেলের সূচি।

ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে অনলাইনে ইনকাম হয়?

এখন আমি আপনাদেরকে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম এর সেরা দশটি উপায় বলবো। তবে এগুলো দিয়ে রাতারাতি ইনকাম করা সম্ভব হবে না। সময় এবং ধৈর্য্যসহকারে কাজ করলে অবশ্যই আপনি ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি সঠিক গাইডলাইন নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে ওয়েবসাইট থেকে প্রচুর ইনকামের সুযোগ আছে। আপনার ওয়েবসাইটটি পরিপূর্ণভাবে তৈরি হওয়ার পর, যখন মোটামুটি ভালো পরিমাণে ট্রাফিক আসা শুরু হবে তখন থেকেই কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি ইনকাম শুরু করতে পারবেন ।

১। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম।

গুগল এডসেন্স এড

ব্লগিং অথবা পার্সোনাল ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার ক্ষেত্রে সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম হল গুগল এডসেন্স এবং প্রত্যেকটা ব্লগার এবং ওয়েবসাইটের মালিক একটি টার্গেট নিয়ে কাজ করে সেটা হল গুগল এডসেন্স । আপনার ওয়েবসাইটটি যখন পুরোপুরি কমপ্লিট। হয়ে যাবে এবং নিয়মিত ট্রাফিক আসা শুরু হবে ।তখন আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন । গুগোল অ্যাডসেন্সে আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনাকে গুগল এডসেন্স ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হবে। আপনি যখন সকল শর্ত পূরণ করে এপ্লাই করবেন, তখন গুগল আপনার এডসেন্স এর আবেদন অ্যাপ্রুভ করে নেবে। এবং আপনার ওয়েবসাইটটি যদি গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়,তখন আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হবে। এই বিজ্ঞাপন গুলো আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর যখন ক্লিক করবে তখনই আপনার ইনকাম হবে । আপনার ওয়েবসাইটে যত ভালো মানের কনটেন্ট থাকবে এবং যত বেশি ভিজিটর আসবে, তত বেশি ইনকাম এর সুযোগ তৈরি হবে ।

২। এফিলিয়েট মার্কেটিং।

আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে ভালো মানের কনটেন্ট পাবলিশ করবেন ।তখন প্রতিদিনই নতুন নতুন ভিজিটর আসবে এবং প্রতিদিনই ভিজিটর বাড়তে থাকবে। যখন আপনার ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণে ভিজিটর আসতে থাকবে তখনই আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন । বড় বড় অনলাইন শপ যেমন আলিবাবা, অ্যামাজন এসব কোম্পানিতে যে প্রোডাক্ট বিক্রি হয় । সে সব প্রোডাক্টের লিংক আপনার ওয়েবসাইটে শেয়ার করবেন। আপনার ওয়েবসাইট থেকে যদি কোন ভিজিটর ওই লিংক ক্লিক করে ওই প্রোডাক্ট কিনে তাহলে আপনি একটি কমিশন পাবেন। এটাকে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং। বিভিন্ন কোম্পানি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নিয়োগ করে। এর মানে হলো এসব কোম্পানিতে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে একাউন্ট খুলতে পারবেন এবং সেই কোম্পানি আপনাকে প্রত্যেকটি প্রোডাক্টের জন্য একটি ইউনিক লিংক প্রদান করবে। সেই লিঙ্ক আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন এবং সেই প্রোডাক্ট সম্বন্ধে লেখালেখি করবেন। রিভিউ লিখবেন যাতে করে ভিজিটর সেই প্রোডাক্টটি কিনতে আগ্রহী হয়। বাংলায় আমরা অনেকটা দালালি বলে থাকি। মাইন্ড করবেন না প্লিজ।

৩। স্পনসর্শিপ আর্টিকেল অথবা প্রডাক্ট রিভিউ।

অনেক ওয়েবসাইট গুগল এডসেন্স বা থার্ড পার্টি কোন এ্যড ব্যবহার করেন না।

তাহলে তারা কিভাবে ইনকাম করে থাকেন। সত্যি বলতে তার আরও বেশি ইনকাম করে থাকেন। এক্ষেত্রে কিছু ওয়েবসাইট, নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে এবং সেই কোম্পানির প্রোডাক্ট নিয়ে লেখালেখি করে এমন হতে পারে কোন প্রোডাক্ট এর বিষয়ে স্পেসিফিক ভাবে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করে থাকে। আপনার ওয়েবসাইটে কনটেন্ট এর গুণগত মান যদি ভাল হয় তাহলে এসব কোম্পানি আপনার সাথে যোগাযোগ করে তাদের পণ্য বা সেবার অ্যাড প্রচার করবে এতে করে আপনার ইনকাম এর দারুন সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

৪। অ্যাডস্পেস ভাড়া দিয়ে ইনকাম।

বর্তমান সময়ে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। গুগোল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত দেওয়া থাকে। তাই অ্যাপ্রভাল পেতে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে আপনি এডসেন্স ছাড়াও ওয়েব সাইটের কিছু অংশ ভাড়া দিয়ে মাধ্যমে ইনকাম ।

অনেকে দেখে থাকবেন ওয়েব সাইটের বিভিন্ন অংশে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো হয় । একজন ওয়েবসাইটের মালিক নিজের ইচ্ছামত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারেন।

আরো পড়ুন ১০ টি সেরা উপায়ে অনলাইনে ইনকাম শুরু করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণে ভিজিটর যদি থাকে তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন । অথবা আপনি বিভিন্ন কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে আপনার ওয়েবসাইটে তাদের প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করতে পারেন।

৫। রিভিউ করে ইনকাম।

কোন প্রোডাক্টের সেল বাড়ানোর জন্য বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলো তাদের প্রোডাক্ট সেল বাড়ানোর জন্য এবং ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য ওয়েবসাইটের মালিকদেরকে অফার করে থাকে। বিশেষ করে যারা ব্লগিং করেন তাদেরকে টাকার বিনিময়ে তাদের প্রোডাক্ট এর রিভিউ নিয়ে থাকেন । এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে যদি পর্যাপ্ত ভিজিটর আসে আপনি তাহলে আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর রিভিউ করে ইনকাম করতে পারেন।

৬। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ।

যতই দিন যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি তত উন্নত হচ্ছে এবং এর সাথে সাথে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ সকল ধরনের পণ্য এবং সার্ভিস অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। ছোট বড় সকল প্রতিষ্ঠানে এখন অনলাইন নির্ভর বেচাকেনার দিকে ছুটে চলেছে এবং সফলতা ও বেশ ভালো। এখন মানুষ আরো বেশি স্মার্ট আরো বেশি “অলস” ঘরে বসে কেনাকাটা করতে বেশি আগ্রহী।  তাই আপনি নিজেই শুরু করতে পারেন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট।  ধরুন আপনার এলাকায় একটি দোকান আছে তার কাস্টমার কারা ? আপনার দোকানে আশপাশের এলাকার মানুষ ।

 কিন্তু যদি আপনি অনলাইনে কোন ওয়েবসাইট থাকে আপনার যদি অনলাইনে কোন স্টোর থাকে তাহলে তার কাস্টমার হবে দেশব্যাপী এমনকি বিশ্বব্যাপী।

৭। গ্রাফিক্স প্রোডাক্ট বিক্রি করে

অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ইমেজ, ভিডিও ক্লিপ , ভেক্টর স্টক ইমেজ, এ সকল ফাইল এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার অথবা আপনি যদি ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ফটোগ্রাফি অনলাইনে সেল করতে পারবেন। যদিও এসব প্রোডাক্টের জন্য বড় বড় ওয়েবসাইট ইতিমধ্যেই আছে তারপরেও আপনার ওয়েবসাইটে এইসব প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য রাখতে পারেন। বলা যায় না তো কার কোনটা পছন্দ হয়ে যায়।

Working Smarter NOT Harder Pro tips for a Newbie freelancer

এছাড়াও অনলাইনে দ্রুত ইনকাম করা অন্যতম মাধ্যম হলো ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং এজন্য আপনাকে কোনো একটি বিশেষ কাজের উপর দক্ষতা থাকতে হবে। সেটা হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে এসইও হতে পারে ওয়েব ডেভলপিং আপনি যে কাজটি বেশি পছন্দ করেন সেই কাজের উপর এখন থেকেই স্কিল তৈরি করুন। আর আপনি যদি অলরেডি কাজ জানেন তাহলে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করে দিন। তবে মনে রাখবেন আপনার যদি স্কিল না থাকে তাহলে ভুল করেও কোনো মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলবেন না। প্রথমে স্কিল তৈরি করুন তারপর মার্কেটপ্লেস এ প্রবেশ করুন। কারণ স্কিল ছাড়া মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুললে যে কোন সাসপেন্ড হতে পারেন। আর একবার সাসপেন্ড হলে সেই মার্কেটপ্লেসে আর কখনোই আপনি একাউন্ট খুলতে পারবেন না।

এতক্ষণ ধরে যা বললাম এর মানে হলো অনলাইন থেকে আপনি অনেক ভাবে ইনকাম করতে পারবেন। তবে যে কোন একটি বিষয়ের উপর মনোযোগ সহকারে ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে কোন না কোন সময় সফলতা আসবেই এই আর্টিকেলটি সম্বন্ধে আপনার মতামত জানানোর জন্য কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করতে পারেন এছাড়াও আমার যদি কোন ভুল হয়ে থাকে ভুলগুলো সংশোধন করে দিবেন আশা করছি।