লোগো ডিজাইন এর যে গোপন টিপস গুলো জানলে সহজেই কাজ পাবেন।

যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন অথবা  শিখতে চাচ্ছেন তারা নিশ্চয়ই লোগো ডিজাইন সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। লোগো ডিজাইন হল ফ্রিল্যান্সারদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাচ্ছেন।

লোগো ডিজাইন খুব সহজ আবার খুব কঠিন। আপনি যদি একজন প্রফেশনাল এর তত্ত্বাবধানে কাজ শিখেন তাহলে লোকজন সম্পর্কে আপনার ভাল অভিজ্ঞতা হবে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনি সহজেই কাজ করতে পারবেন। আমি আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদেরকে কিছু গোপন টিপস বলে দিব। যেন আপনারা সহজেই লোগো ডিজাইনের সঠিক গাইডলাইন গুলো বুঝতে পারেন।

লোগো ডিজাইন কী ? কেন? কীভাবে? এই বিষয়গুলো জানার জন্য আমার এই আর্টিকেলটি দেখে আসতে পারেন।

একনজরে আর্টিকেলের চুম্বক অংশঃ

লোগো ডিজাইন করার আগে যা জানতে হবে

একটি নতুন কোম্পানি যখন তাদের লোগো তৈরি করার জন্য আপনাকে হায়ার করবে তখন আপনার বেশ কিছু বিষয়ে তাদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। আপনি কিছু তথ্য না জানলে একটি সঠিক লোগো কোনভাবেই তৈরি করতে পারবেন না। কি কি তথ্য তাদের কাছ থেকে নিতে হবে এই বিষয়গুলো আলোচনা করছি।

যে কোম্পানিতে লোগো তৈরি করবেন সেই কোম্পানিটি একদম নতুন কোম্পানি?

যদি কোম্পানিটি স্টার্টআপ হয়ে থাকে মানে সবেমাত্র শুরু করেছে। তাহলে তাদের সাথে লোগোটির বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে। যেহেতু নতুন কোম্পানি তাই হতে পারে তাদের ডিজাইন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা একদমই কম, বা নেই। তাই এরকম ক্লায়েন্টকে ম্যানেজ করতে কিছু বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন।

প্রথমেই ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জেনে নিন, তারা কম্পানি কি ধরনের লোগো চায়। আপনি হয়তো জানেন লোগো সাত প্রকার যদি না জানেন তাহলে এই আর্টিকেলটি দেখে নিন। প্রত্যেক প্রকার লোগো ডিজাইন স্যাম্পল তাদেরকে দেখান দেখুন তারা কি ধরনের লোগো পছন্দ করে। জিজ্ঞেস করুন তাদের পছন্দের কোন কালার আছে কিনা।

তারা কি সার্ভিস সেল করে? তাদের টার্গেট অডিয়েন্স কারা? লোগোর কোন ট্যাগ লাইন আছে কিনা। এই বিষয়গুলো আগে জেনে নিন।

কিওয়ার্ড বাছাই করুন

ক্লায়েন্ট আপনাকে যে তথ্যগুলো দেবে সেগুলো এনালাইসিস করতে শুরু করুন। যেমন কোম্পানির নাম, কোম্পানি কি ধরনের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস সেল করে থাকে কোম্পানির ভবিষ্যতের লক্ষ কি তাদের টার্গেট অডিয়েন্স গুলো কারা এই সবগুলো বিষয় আপনি এনালাইসিস করুন। এবং ক্লায়েন্ট যেগুলো দিবে সে কিওয়ার্ডগুলো অনলাইনে সার্চ করুন।

তাদের কম্পেটিতর কারা এবং কম্পিটিটর এর ওয়েবসাইট গুলো ভিজিট করুন এবং দেখুন সেই ওয়েব সাইটে কি ধরনের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এখান থেকে কিছু আইডিয়া জেনারেট করতে পারেন তবে প্রথম কাজ আপনাকে কিওয়ার্ডগুলো বাছাই করে সে কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে মাইন্ড ম্যাপ করা।

মাইন্ড ম্যাপ কি?

মাইন্ড ম্যাপ কি? প্রশ্নটির উত্তর আমি আমার মতো করে দিচ্ছি। মনে করুন ফ্রিল্যান্সিং একটি পেশার নাম। কোন নির্দিষ্ট কাজ নয়। ফ্রিল্যান্সিং এর ভিতরে আরও অনেকগুলো শাখা প্রশাখা রয়েছে যেমন কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইন করে, কেউ web-development করে, আবার কেউ ডাটা এন্ট্রি করে, কেউ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে এরকম আরো অনেক কাজ রয়েছে। যে কাজ গুলোকে এক নামে সবাই ফ্রিল্যান্সিং বলে।

মাইন্ড ম্যাপ হল এরকম একটি নাম এরকম একটি প্রসেস। যেখানে আপনাকে মুল কিওয়ার্ড থেকে এর শাখা প্রশাখা বের করতে হবে। মনে করুন আপনার ক্লায়েন্টের কিওয়ার্ড হল “ট্রান্সপোর্ট” এখন আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কি কি উপায়ে ট্রান্সপোর্ট করা যায়। সেটা হতে পারে বিমানের মাধ্যমে হতে পারে জাহাজের মাধ্যমে হতে পারে বাস, ট্রেন, ট্রাকে ট্রান্সপোর্ট করতে পারে এখন আপনাকে সম্ভাব্য সকল ধরনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

মাইন্ড ম্যাপ হলো এরকম একটি প্রসেস একটি গ্রাফ এর মাধ্যমে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবেন।

মাইন্ড ম্যাপ

মাইন্ড ম্যাপ করা হয়ে গেলে আপনি কাঙ্খিত কিওয়ার্ডগুলো পেয়ে যাবেন এবং প্রত্যেকটা কিওয়ার্ড নিয়ে অনলাইনে সার্চ করুন দেখুন অনেক ইউনিক আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

কিভাবে গেলেন কিওয়ার্ড পেয়ে গেলেন মাইন্ডম্যাপ করলেন এখন সময় হল লোগো স্কেচ করার।

কিভাবে লোগো স্কেচ করবেন?

পেন্সিল খাতা নিয়ে পেন্সিল খাতা নিয়ে বসে পড়ুন।
স্কেচ করার জন্য যে কিওয়ার্ডগুলো আপনি পেয়েছেন সে কিওয়ার্ডগুলো লিখে অনলাইনে সার্চ করুন সার্চ করলে যে অবজেক্ট গুলো আপনি পাবেন সে অবজেক্ট গুলো দেখে দেখে এবং আপনার ক্লায়েন্টের কোম্পানির নাম সহ স্কেচ করতে শুরু করুন বিভিন্নভাবে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে স্কেচ করুন 10 থেকে 12 বার চেষ্টা করুন দেখবেন যে একটি অসাধারণ ইউনিক কনসেপ্ট আপনি পেয়ে গেছেন। চেষ্টা করতে থাকুন অবশ্যই ইউনিক কনসেপ্ট ভাবেনি পাবেন।

ধরে নিচ্ছি আপনি একটি অসাধারন লোগো স্কেচ পেয়ে গেছেন এখন সময় সেটাকে ডিজিটালাইজড করা মানে কম্পিউটারের মাধ্যমে সেটাকে আরো আকর্ষনীয় এবং বায়ারকে ডেলিভারি দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা।

লোগো ডিজাইনের জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন?

পারফেক্ট পাবে একটি লোগো ডিজাইন তৈরি করার জন্য এডোবি ইলাস্ট্রেটর এর বিকল্প নেই!!
বিকল্প নেই বললে ভুল হবে। আছে তবে সহজলভ্য সফটওয়্যার হলো এডোবি ইলাস্ট্রেটর। এ ছাড়াও অন্যান্য সফটওয়্যার আছে যেগুলো আমি ব্যবহার করি না।

অনেকেই ফটোশপের সাহায্যে লোগো তৈরি করে থাকেন যা মোটেও উচিত না। ফটোশপের সাহায্যে লোগো তৈরি করা বেশ কষ্টসাধ্য এবং এটা কাস্টমাইজড পরিবর্তন সংশোধন করা অনেক ঝামেলার ব্যাপার। সুতরাং পারফেক্ট সফটওয়্যার হল এডোবি ইলাস্ট্রেটর।

আপনার তৈরি করা স্কেচটি এডোবি ইলাস্ট্রেটরে ওপেন করুন, লোগো তৈরি করুন।

কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করুন

  1. লোগোতে অতিরিক্ত কালার ব্যবহার করবেন না যতটা সম্ভব কম কালার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
  2. লোগোতে বেশি ফন্ট ব্যবহার করবেন না সর্বোচ্চ দুই ধরনের ফন্ট ব্যবহার করুন।
  3. এলাইনমেন্ট ঠিক রাখুন।
  4. লোগোতে ডিটেলস রাখবেন না যতটা সম্ভব আইকনিক রাখার চেষ্টা করুন।
  5. একটি লোগোর জন্য কয়েকটি কালারের ভেরিয়েশন তৈরি করুন।

লোগো প্রেজেন্টেশন কিভাবে করবেন?

যাত্রাপথে বিভিন্ন সময়ে আমাকে হোটেলে খেতে হয়। কেন যেন আমার হোটেলে খাবার গুলো খেতে বেশি ভালো লাগে। তবে আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি খাবারের স্বাদ প্রেজেন্টেশন এর উপর নির্ভর করে। হোটেল গুলোতে খাবার গুলো খুব সুন্দর ভাবে প্রেজেন্টেশন করে যা আপনার মনকে খাবারের প্রতি একটি ভাল ধারণা তৈরি করে দেয়।

যাইহোক খাবারে কথা বাদ। আসুন আপনার লোগো তৈরি করা হয়েছে। কিভাবে প্রেজেন্টেশন করবেন। লোগো তৈরি করতে যে রকম সময় ব্যয় করেছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন। ঠিক লোগো প্রেজেন্টেশন ভালোভাবে করতে পারলে বায়ারের মন সহজেই গলে যাবে এবং আপনার প্রথমবারেই আপনার ডিজাইন টি সিলেক্ট হয়ে যাওয়ার চান্স।

প্রেজেন্টেশনের মনোযোগ দিন। কিভাবে আপনি একটি পারফেক্ট প্রেজেন্টেশন করতে পারেন এজন্য একটু অনলাইনে ঘাটাঘাটি করা লাগবে। ড্রিবল এবং বেহান্স নামে একটি ওয়েবসাইট আছে। এটা সাধারণত পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট।

এখানে বিভিন্ন ডিজাইনারসহ অনেক ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজগুলো সাজিয়ে রাখে এবং বায়ারও সেখান ভিজিট করে সুতরাং প্রেজেন্টেশনের আইডিয়া নিতে আপনি বেহান্স ওয়েবসাইটে ঘুরে আসুন এবং আপনার লোগো ক্যাটাগরি গুলো দেখুন সেম ক্যাটাগরির লোগো গুলো দেখুন। কিভাবে তারা প্রেজেন্টেশন করেছেন।

প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে একটু সময় লাগে। কিন্তু বাইরের মন খুশি করার জন্য প্রেজেন্টেশন এর বিকল্প নেই। লোগো তৈরি করেছেন একটু সময় ব্যয় করে প্রেজেন্টেশনটি ও ভালো ভাবে তৈরি করুন তাহলে আপনি সহজেই সাকসেস হয়ে যাবেন।

 

বায়ারের সাথে কিভাবে কমিউনিকেট করবেন?

আপনি যখন বায়াররের কাজটি করছেন তখন হতে পারে বা আর আপনার কাজের আপডেট জানতে চাবে। তখন আপনার কাজের স্ক্রিনশট বায়ারের সাথে শেয়ার করবেন। এবং তার মতামত জানতে চাইবেন।

জিজ্ঞেস করবেন আপনি সঠিক রাস্তায় আছেন কিনা। তখন বায়ার বলবে যে হ্যাঁ আপনি কাজ চালিয়ে যান। এটা ঠিক আছে। আর যদি বলে না এভাবে না তখন বায়ার এর মতামতকে প্রাধান্য দিন এবং সেভাবেই কাজ করুন মনে রাখবেন আপনার কাছে একটি কাজ ভাল লাগছে কিন্তু সেটি বায়াররের কাছে ভাল নাও লাগতে পারে সুতরাং বায়ার কে প্রাধান্য দিন।

আমার পরামর্শ

লোগো ডিজাইন একটি ক্রিয়েটিভ পেশা এ পেশায় আপনি যত বেশি ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে পারবেন, আপনারা এর সম্ভাবনা তত বেশি আপনার ক্লায়েন্ট ততবেশি বাড়তে থাকবে। সময়ের সাথে ক্রিটিভিটি পরিশ্রম অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে তাহলেই সফলতা ধরা দেবে।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে অনলাইন থেকে বিভিন্ন ভেক্টর ইমেজ ব্যবহার করে লোগো তৈরি করে থাকেন। এটা আসলে ক্রিয়েটিভিটির পরিচয় বহন করে না। এবং এভাবে আপনি বেশিদিন মার্কেটপ্লেসগুলোতে টিকে থাকতে পারবেন না। কোন না কোন সময় দেখা যাবে আপনি ধরা খাবেন এবং আপনার প্রোফাইলটি হারাবেন।

সুতরাং ভালোভাবে কাজ শিখুন ভালোভাবে কাজ শেখার কোন বিকল্প নাই। আপনার নিজের মেধা খাটিয়ে একটি প্রডাক্ট তৈরি করবেন আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না সেই প্রোডাক্টটি অন্যকেউ চুরি করে ব্যবহার করুক। আর বায়ার আপনাকে এমনি এমনি টাকা দিবে না। তার কোম্পানির জন্য আপনি একটি ইউনিট লোগো তৈরি করে দিবেন এই আশাই করে।

সে সুতরাং অনলাইন থেকে বিভিন্ন ডিজাইন চুরি না করে নিজের ক্রিয়েটিভিটি ব্যবহার করে তৈরি করুন। আশা করছি সফলতা ধরা দিতে সময় লাগবে না। আমার এই আর্টিকেলটিতে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে অনুগ্রহ করে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন। আমাদের সাথেই থাকবেন আমি নিয়মিত এরকম আর্টিকেল পাবলিশ করতে থাকবো ইনশাআল্লাহ ।

আমার বিশ্বাস এতে করে আপনাদের একটু হলেও উপকারে আসবে। ধন্যবাদ সবাইকে আসসালামু আলাইকুম।