কিভাবে অনলাইনে লোগো ডিজাইন করে ইনকাম করা যায়?

লোগো ডিজাইন কি?

লোগো কি এটা সহজ ভাবে বললে বলা যায় যে “একটি চিহ্ন” যে চিহ্নটি দেখামাত্রই আপনার মনে হবে আরে এটা তো আমার পরিচিত চিহ্ন এটাতো এর আগেও কোথাও দেখেছি।

এর মানে হলো আপনি কোন একটা চিহ্ন দেখলেন দেখার সাথে সাথেই আপনার মনে হলো আরে এটাতো অমুক কোম্পানির চিহ্ন।

ধরুন বাংলালিংক বাংলাদেশের একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি তাদের একটি চিহ্ন আছে যে চিহ্নটি দেখলেই আপনার মনে হয় যে এটাতো বাংলালিংক এই চিহ্নটাকে “লোগো” বলা হয়।

লোগো ডিজাইন কত প্রকার?

একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আমাদের এটা জানা জরুরী যে লোগো কত প্রকার এবং কি কি?লোগো বর্তমান সময়ে বেশি চাহিদা সুতরাং এ বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারনা থাকা উচিত।
সাধারণত সাত ধরনের হয়ে থাকে আমি নিচে তালিকাটি দিয়ে দিচ্ছি

  1. ওয়ার্ড মার্ক লোগো ডিজাইন
  2. লেটার মার্ক লোগো ডিজাইন
  3. এমব্লেম লোগো ডিজাইন.
  4. মাস্কোট লোগো ডিজাইন
  5. অ্যাবস্ট্রাক্ট লোগো ডিজাইন
  6. সিম্বলিক লোগো ডিজাইন
  7. কম্বিনেশন মার্ক লোগো ডিজাইন

লোগো ডিজাইনের এই সাতটি শাখা।আমি প্রত্যেকটি শাখা নিয়ে আলোচনা করব আমাদের সাথেই থাকুন।

কেন লোগো ডিজাইন গুরুত্বপূর্ণ?

 

একটি লোগো কোম্পানিকে মানুষের সামনে পরিচিত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের লোগো ডেভলপ করার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকে।

লোগো মানুষের সাবকনসাস মাইন্ড জমা হয়ে থাকে একটি লোগো যখন মানুষ বারবার চোখের সামনে দেখতে থাকে তখন মামানুষের অজান্তেই সেই আকৃতি বা ডিজাইনটি তার মনে গেঁথে যায় আপনি যখন বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন গুলো দেখবেন, তাদের বিজ্ঞাপনের শেষের দিকে লোগো প্রদর্শন করছে অথবা এমন কোন সময় প্রদর্শন করছে যখন এই লোগোর বিষয়বস্তুটি আপনার মনে গেঁথে যায় এটি একটি প্রচারণার কৌশল।

মানুষের সাথে ব্র্যান্ডিং কে পরিচিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে সুতরাং লোগো ছাড়া একটি কোম্পানি কল্পনাই করা যায় না।

লোগো ডিজাইন করে কি ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব?

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একটি পেশার নাম হল ফ্রিল্যান্সিং। বাংলাদেশের এমনও কিছু ফ্রিল্যান্সার আছে যারা প্রতি মাসে লাখ টাকার উপরে ইনকাম করে থাকেন ফ্রিল্যান্সিং করে। লোগো ডিজাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে কারণ অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারই লোগো ডিজাইন করে ইনকাম করে থাকেন।

লোগো ডিজাইনে প্রচুর পরিমাণ চাহিদা রয়েছে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে। বলাই যায় লোগো ডিজাইন করে ফ্রিল্যান্সিং লোগো ডিজাইন করে অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে প্রচুর পরিমাণে ইনকাম করা যায়।

লোগো ডিজাইন কিভাবে শিখবেন?

হ্যাঁ, এটা হল কাজের কথা। লোগো ডিজাইন কিভাবে?শিখব অনেকক্ষণ ইনকামের কথা বললাম। আসল কথা হল আমরা এই কাজগুলো কিভাবে শিখব? গ্রাফিক্স ডিজাইন নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি সহজ বিষয় যা শিখতে অল্প সময়ে লাগে কিন্তু এই অল্প সময়ে ইনকাম শুরু করা সম্ভব।

এখন বিভিন্ন অলিতে-গলিতে পোস্টার দেখে থাকবেন যেখানে আপনাকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার স্বপ্ন দেখাবে। এখন কথা হচ্ছে টাকা কিন্তু এত সস্তা না। কোন মানুষই এমনি এমনি আপনাকে টাকা দিবে না।

এজন্য পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে। তো ইনকামের বেলাও এরকম আপনি যখন একটি বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করবেন তখনই আপনি ইনকাম শুরু করতে পারবেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপারটা হল এরকম যদি আপনি ছোটবেলা থেকে আঁকাআঁকি করতে পছন্দ করেন “ভালোবাসেন এটা করতে” যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে গ্রাফিক ডিজাইন টি আপনি শিখতে পারেন।

কারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন বা এই লোগো ডিজাইন বিষয়টি অনেকটা ক্রিয়েটিভিটির উপর নির্ভর করে। আপনি যত বেশি ক্রিয়েটিভ হবেন এই খাতে ততো বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

লোগো ডিজাইন গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য সবচাইতে সহজ এবং বিনা খরছার মাধ্যম হলো ইউটিউব ইউটিউব থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে যা শেখাবে আমি মনে করি ইউটিউব থেকে তার চাইতেও বেশি শিখতে পারবেন। যদি আপনার শেখার আগ্রহ থাকে। আমি আপনাকে ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার জন্য উৎসাহিত করবোনা। আমি বলব আপনি ইউটিউব থেকে শেখা শুরু করেন।

লোগো ডিজাইন শেখার জন্য কি কি প্রয়োজন হবে?

এবার অনেকে হয়তো হতাশ হতে পারেন কারণ আমি এখন যা বলব তা সত্যিই একটু হতাশাজনক।

লোগো ডিজাইন গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ফ্রিল্যান্সিং এসকল কাজ করতে অবশ্যই আপনাকে কম্পিউটার থাকতে হবে সাথে ইন্টারনেট কানেকশন। কম্পিউটার ছাড়া আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

আপনি যখন কাজ শিখবেন তখন থেকেই আপনার কম্পিউটার প্রয়োজন হবে। তাই আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চান এ ব্যাপারে যদি আপনি নিশ্চিত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই একটি কম্পিউটার নিতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন লোগো ডিজাইন বা গ্রাফিক ডিজাইন শেখা মাত্র কিন্তু কাজ পাবেন না।

আপনার ব্যাকআপ থাকতে হবে। আপনি শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং এর উপর ভরসা করে এই সেক্টরে আসবেন না। কারণ এখানে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। কারণ এ সেক্টর সবার জন্য না।

আপনি নিজের ক্রিয়েটিভিটি মেধা শ্রম এবং সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে তাহলেই ফ্রিল্যান্সিং জগতে আপনি সফলতার মুখ দেখতে পাবেন। অন্যথায় আপনি শুধুমাত্র হতাশ হবেন।

কোন কোন মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ পাব?

ধরে নিচ্ছি আপনি মোটামুটি ভালোভাবে লোগো ডিজাইন আয়ত্ত করেছেন এখন আপনি কাজ করছেন কোথায় কাজ পাবেন। মনে রাখবেন বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রচুর পরিমাণে প্রতিযোগিতা। আপনি যদি সঠিকভাবে দক্ষতা অর্জন না করেন তাহলে আমি মনে করি কোন মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলবেন না।

আমি আবারো বলছি ভালোভাবে নিজের স্কিল ডেভেলপ করুন। তারপরে মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলুন। কারণ আপনি যদি ভালোভাবে স্কিল ডেভেলপ করতে না পারেন আর এর মধ্যে যদি অ্যাকাউন্ট খুলে বসেন তাহলে আপনি শুধুমাত্র হতাশই হবেন। কাজ পাবেন না।

এখানে অনেক স্কিল সম্পন্ন ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সার্ভিস সেল করছে তাদের সাথে টেক্কা দিতে হলে আপনাকেও তাদের মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে।

আরেকটি বিষয় হলো আপনাকে যখন কোন বায়ার অর্ডার করবে আর আপনি যদি সেই কাজটি ঠিকমত বুঝতে না পারেন আর যদি কাজটি ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে না পারেন তাহলে সে আপনাকে এমন একটি বেড রিভিও দেবে যার কারনে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর এখন মার্কেটপ্লেসগুলোর খুব কড়াকড়ি করছে।

তারা সবসময়ই বায়ারদের কে প্রায়োরিটি দিয়ে থাকে। আর যদি কোন বায়ার যদি কোন রিপোর্ট করে। সেটা অনেক গুরুত্ব দেয় অনেক টপরেটেড সেলারের শুধুমাত্র একটি মাত্র রিপোর্টের কারণে তার একাউন্ট ডিজেবল হয়ে যায় সুতরাং এ বিষয়টি খুব খেয়াল করবেন আপনার যখন মনে হবে যে আমি এখন উপযুক্ত তখনই অ্যাকাউন্ট খুলবেন।

প্রথম অবস্থায় যেসকল মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলবেন তার একটি তালিকা নিচে দিয়ে দিচ্ছি

মনে রাখবেন ভালোভাবে কাজ নাসিকে কোন সাইটে একাউন্ট খুলবেন না।

আরো পড়ুন

৭টি সেরা পদ্ধতিতে পার্সোনাল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ইনকাম করুন ২০২১

আমার পরামর্শ 

আমি একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাদেরকে এটা বলতে পারি যে অনলাইন থেকে সত্যিই ভালো পরিমাণে ইনকাম করা সম্ভব। তবে এখানে কথা হলো আপনাকে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কারণ দক্ষতা ছাড়া আপনি ইনকাম করতে পারবেন না। আপনি যদি এটা চিন্তা করেন যে আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখবো এবং লাখ লাখ টাকা ইনকাম করব তাহলে আমি বলব এই পেশাটি আপনার জন্য নয়। কারণ এখানে আপনাকে অনেক ধৈর্য ধরতে হবে ধৈর্য না ধরলে এখানে টিকতে পারবেন না। আমি প্রায় ছয় মাস পরে প্রথম কাজ পেয়েছিলাম।

আলহামদুলিল্লাহ পরে আস্তে আস্তে ভালো পরিমাণে ইনকাম হওয়া শুরু হয়েছে। দোয়া করবেন আমি যেন আরো অনেক দূর যেতে পারি। তবে সবসময় সততার সাথে কাজ করবেন কাউকে ঠকাবেন না ইনশাআল্লাহ আপনাকে আল্লাহ তাআলা ঠকাবে না। ইসলামিক গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করবেন কোন হারাম কাজের সাথে সম্পৃক্ত হবেন না।

আশা করি আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বরকত দিবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আপনাদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারি। আমার উদ্দেশ্য হলো আপনাদেরকে সঠিক গাইডলাইন দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর সঠিক অর্থ গুলো বুঝতে সহায়তা করা। কারণ এখানে আপনাকে অনেকেই স্বপ্ন দেখাবে কিন্তু স্বপ্ন পূরণ করার জন্য সঠিক গাইডলাইন আপনাকে হয়তো সবাই দিবে না। তো সবাই ভালো থাকবেন।